শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

রাতে শুয়েই অস্বস্তি! বুকজ্বালা করা, ঢেকুর তোলা

ভারী খাওয়াদাওয়া করেই ঘরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়লেন! এ দিকে, চোখ বোজার কিছু ক্ষণ পরেই শুরু হল অস্বস্তি। বুকজ্বালা করা, ঢেকুর তোলা শুরু হলো অত্যাচার! রাতবিরেতে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করবেন? মধ্যরাতের ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ কে সামলাবেন কী করে?

 

 

ডাক্তাররা বলছেন রাতের ওই অ্যাসিড রিফ্লাক্সের একটা নাম আছে— গ্যাস্ট্রো ইসোফেজিয়েল রিফ্লাক্স ডিজ়িজ় বা জিইআরডি। এটি এক ধরনের ক্রনিক রোগ, অর্থাৎ এমন অসুখ, যা বার বার ফিরে আসে।  চিকিৎসকদের মতে, জিইআরডির সমস্যা তখনই হয়, যখন পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিড শারীরিক গোলযোগের কারণে খাদ্যনালিতে উঠে আসে। সেটা যখনই হয়, তখনই গলা-বুক জ্বালা, তিক্ত অম্ল স্বাদের পানি মুখে উঠে আসা, ঢেকুর, বুকে ব্যথা, গলার কাছে কিছু আটকে থাকার মতো অনুভূতি হতে থাকে।

কেন এমন হয়?

চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, জিইআর়ডি হওয়ার একটি মূল কারণ হল লোয়ার ইসোফিজিয়াল স্পিংটারের কাজে গলদ। লোয়ার ইসোফিজিয়াল স্পিংটার বা এলইএস আসলে পাকস্থলী আর খাদ্যনালির সংযোগস্থলে আংটির মতো দেখতে একটি পেশি। যা খাবার খাওয়ার সময় বা পানি পান করার সময় শিথিল হয়ে তা পাকস্থলীতে যেতে দেয়। অন্য সময় সংকুচিত থেকে পাকস্থলীর মুখ বন্ধ রাখে। চিকিৎসক বলছেন, মুশকিল হয় তখন, যখন ওই প্রবেশ পথটি যথা সময়ে বন্ধ হয় না। তখনই পাকস্থলীতে থাকা অ্যাসিড বাইরে আসার সুযোগ পায় এবং অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা শুরু হয়। বিশেষ করে রাতে শুয়ে থাকার সময় খোলা পথ দিয়ে অ্যাসিড বাইরে আসে আরও বেশি পরিমাণে।

কী ভাবে ঠেকাবেন?

ঘুমনোর সময়ে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা যাতে না হয়, তার জন্য সাবধান হতে হবে রাতের খাবার খাওয়ার আগে থেকে। পাশাপাশি জীবনচর্যায় বদল আনার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকরা। মূলত চারটি বিষয়ে নজর দিতে হবে।

১। গভীর রাতে খাওয়ার অভ্যাস ছাড়া উচিত। বিছানায় শোয়ার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে রাতের খাবার খেয়ে নিতে হবে।

২। অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা থাকলে ঘুমোনোর সময় বালিশে পিঠ দিয়ে বিছানা থেকে অন্তত ৬-৮ ইঞ্চি উঁচুতে মাথা রেখে ঘুমোন। তাতে পাকস্থলী থেকে খাদ্যনালি বেয়ে অ্যাসিড উঠে আসার সমস্যা কিছুটা কমবে।

৩। বাঁ দিক ফিরে শুলে খাদ্যনালীর উপর চাপ পরে কম। তাতেও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা কমানো সম্ভব।

৪। বাজারে পাওয়া অ্যান্টাসিডও সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিন।

 

অনলাইন ডেস্ক

 

comment

post a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হেলথ হাব ২৪ বিডি