রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

সাপ্লিমেন্টের মেগা ডোজিং ডেকে আনবে বিপদ!

 

 

       

 

 

 

সাপ্লিমেন্ট শব্দটি এখন বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে। অনেকেই আমরা পুষ্টিবিদ- ডাক্তারের পরামর্শ কিম্বা পরামর্শ ছাড়াই টুকটাক গ্রহণ করে ফেলছি ভিটামিন আর মিনারেলস সাপ্লিমেন্ট। তবে, এর অতিরিক্ত গ্রহণ উপকারের পাশাপাশি, কখনো বিপদ ডেকে নিয়ে আসতে পারে এমন তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদ মাধ্যম বিবিসি। প্রতিবেদনে বলা হয়- গবেষণায় দেখা গেছে যে এর কোনও স্পষ্ট স্বাস্থ্য উপকারিতা নেই, এবং এটি আপনার ক্ষতির কারণও হতে পারে।

তাহলে গবেষণা কি বলছে?
মূলত ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ হল এমন যৌগ যা আমাদের শরীর তৈরি করে না, তবে এসব উপাদান আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। যেহেতু আমরা এগুলি তৈরি করতে পারি না, তাই অবশ্যই এগুলো আমাদের খাবার থেকে গ্রহণ করতে হয়। ভিটামিনের জন্য শরীরের চাহিদা পূরণের সর্বোত্তম উপায় হল প্রচুর পরিমাণে সবুজ শাকসবজি, ফল, শস্য, বাদাম, দুগ্ধজাত পণ্য এবং মাছ খাওয়া। তবে, গবেষণায় দেখা গেছে, আমাদের মধ্যে অনেকেই এই অভ্যাসটি মেনে চলি না। তখনই চলে আসে সাপ্লিমেন্টের ভূমিকা। তবে পুষ্টিবীদরা জানান, সাপ্লিমেন্ট বা সম্পূরক কখনও স্বাস্থ্যকর এবং সুষম খাদ্যের বিকল্প হতে পারে না।

মার্কিন পুষ্টি গবেষক টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিনের অধ্যাপক বেস ডসন-হিউজেস বলেছেন আপনি যদি ফাস্টফুড ও বাইরের খাবারের দিকে ঝুকে থাকেন ,তাহলে সম্ভবত প্রয়োজনীয় পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশ্ন হলো, মাল্টিভিটামিন কি এই পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করতে পারে? উত্তরটি জটিল। ১৯৭০-এর দশকে পশ্চিমা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি এর সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার শুরু হয়। ইনফ্লুয়েঞ্জা থেকে শুরু করে হৃদরোগ, ছানি এবং এমনকি ক্যান্সারের চিকিৎসায় এর কার্যকারিতা দেখা যায় ৫০ ভাগ। তবে অনেকেই আকড়ে আছেন সাপ্লিমেন্ট খেলে এসব রোগমুক্ত থাকবেন, গবেষনায় দেখা যায় তা ভুল। দেখা যায় যে- ভিটামিন সাপ্লিমেন্টগুলিতে তালিকাভুক্ত উপাদান থাকে না এবং নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা সমর্থন করে না। তাছাড়া ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের মেগা-ডোজ বিপজ্জনক হতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ এন আইএইচ অনুসারে…

* উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ডি গ্রহণের কারণে তৃষ্ণা এবং ঘন ঘন প্রস্রাব হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহার- খিঁচুনি, কোমা এবং কখনো মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

* অতিরিক্ত ভিটামিন A তীব্র মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা, পেশী ব্যথা এবং সমন্বয়ের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।

* ভিটামিন ই-এর অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণ রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ার সাথে সম্পর্কিত।

*মাল্টিভিটামিনের মাত্রাতিরিক্ত ডোজ কিডনি এবং লিভারের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে কিডনি ফেইলিউর এবং লিভার সংক্রান্ত জটিলতা বাড়তে পারে

*ফ্যাট সলিউবল ভিটামিন শরীরে অতিরিক্ত জমে অনেক সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে, এমনকি খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে। হাইপার ভিটামিনোসিসও হতে পারে।

 

তবে গবেষণা বলছে প্রতিদিন মাল্টিভিটামিনের ব্যবহার বয়স্ক যারা সীমিত খাদ্য গ্রহণ করেন তাদের জন্য স্বাস্থ্য উপকারী হতে পারে। ম্যানসনের স্বাস্থ্য গবেষণা দেখা যায় ১১ বছর ধরে প্রতিদিন মাল্টিভিটামিন গ্রহণকারী ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যান্সার ধরা পড়ার ঝুঁকি ৮% কম ছিল। এছাড়া যুক্তরাজ্যের NHS পরামর্শ দেয় গর্ভবতীদের জন্য মাল্টিভিটামিন এবং ফলিক অ্যাসিড গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন মেগা-ডোজিং অথবা সুপারিশকৃত দৈনিক পরিমাণের চেয়ে বেশি পরিমাণে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা ঠিক নয়।

 

আফসানা নীলা

সুত্র: https://www.bbc.com/future/article/20250811-should-we-all-be-taking-vitamin-supplements

comment

post a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

comment

post a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হেলথ হাব ২৪ বিডি