
বাংলাদেশে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। এর ফলে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা সতর্ক করেছেন, এই নির্বিচার ব্যবহার ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স’ (AMR) ত্বরান্বিত করছে। ফলশ্রুতিতে সাধারণ সংক্রমণও ক্রমশ চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক নীরব মহামারী।
ভাইরাস বনাম ব্যাকটেরিয়া
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক কেবল ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের বিরুদ্ধে কার্যকর। অথচ দেশের সর্বত্র সর্দি-কাশি বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসজনিত রোগেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই ফার্মেসি থেকে অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক কেনা যাচ্ছে। মূলত এই প্রবণতাই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।
রোগীদের মারাত্মক ভুলসমূহ
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, রোগীরা প্রায়ই ওষুধ সেবনে বড় ভুল করেন। যেমন, দুই-একটি ডোজ খাওয়ার পর একটু সুস্থ বোধ করলেই কোর্স সম্পন্ন করা বন্ধ করে দেন। তাছাড়া ডোজ বাদ দেওয়া কিংবা নিজের ওষুধ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে সেবনের প্রবণতাও রয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলো ওষুধ-প্রতিরোধী হয়ে উঠছে। পরবর্তীতে সেই ওষুধ আর শরীরে কাজ করে না।
চিকিৎসকদের জরুরি নির্দেশনা
অবশ্য এই সংকট উত্তরণে চিকিৎসকরা কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করার আগে রোগীর অ্যালার্জি, গর্ভাবস্থা বা কিডনির রোগ থাকলে তা চিকিৎসককে জানাতে হবে। সাধারণত বমি ভাব বা ডায়রিয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে গুরুতর সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় করণীয়
পরিশেষে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ওষুধের কার্যকারিতা টিকিয়ে রাখতে হবে। সে লক্ষ্যে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ মানুষকে নিজে নিজে ওষুধ কেনা বন্ধ করতে হবে। একই সাথে সুস্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া জরুরি। তবেই অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা সম্ভব।
নিজস্ব প্রতিবেদক





