
শারিরীক পরিশ্রমের সাথে সবারই যেনো স্ট্রেসের লেভেল হাই এখন। মেয়েরা বেশিভাগই চাকরীজীবী । ছেলেদেরও নানান চাপ। প্রত্যেকের চাকরির ধরন আলাদা। টিচিং- সরকারি জব ছাড়াও অনেকে আছেন নানান চ্যালেঞ্জিং কাজে। কেউ কেউ এমন কাজ করেন দিনে টানা আট দশঘন্টা কাজ করে শরীরকে মানাতে পারলেও স্ট্রেসের সাথে মানিয়ে নিতে পারেন না। কারণ তাদের চাকরির সাথে যোগ হয় নানান দায়িত্ব। ফলে স্ট্রেসের পারদ বাড়তেই থাকে।
এরকম সিচুয়েশনে স্বাস্থ্য ভালো রাখা, তাজা রান্না খাওয়া, আর নির্দিষ্টি ফুড রুটিন হয়ে পড়ে নেক্সট টু ইমপসিবল। স্বাভাবিক ভাবেই এসব নর-নারীদের এনার্জি লেভেল লো হয়ে পড়ে। এসময় হঠাৎ হঠাৎ মিষ্টি খাবার বা জাংক ফুড খাবার ইচ্ছে প্রবল ভাবে জেগে উঠে। আসলে স্ট্রেসের সময় স্ট্রেস হরমোন বাড়লে শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। তাই চাহিদা অনযায়ী উপযুক্ত খাবার গ্রহণ না হলে অপরিকল্পিত খাদ্যাভাসে দেহে মেদ চাড়া দিয়ে উঠে। এই জন্য যারা স্ট্রেস ফুল জব করেন তাদের উচিত ঘন ঘন খাওয়া ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া । এছাড়াও এনার্জি লেভেল বাড়াতে সপ্তাহে ৩ বার এক্সাসাইজ করা করা উচিত।
সকালে ঘুম থেকে উঠে কাজে লেগে যাবার আগেই খেতে পারেন প্রোটিন শেক। ব্রেকফাস্টে রাখতে পারেন মৌসুমী ফল বা কলা। খুব সকালে অফিসে পৌছতে ব্যাগে রাখুন চিজ স্লাইস। যেতে যেতে খেয়ে নিলে মন ভালো লাগবে। ব্রেকফাস্টে রুটি সবজির সাথে একটি চাটনি আপনাকে চাঙ্গা করবে। দুই আড়াই ঘণ্টা পর মিড মর্নিংয়ে পছন্দের ফ্লোভারর্ড বা খালি দুধ অথবা টক দই খেয়ে নিতে পারেন। অফিসে রাখতে পারে সয়া মিল্ক। যা হবে দুধ খাওয়ার সহজ উপায়। দুপুরে হালকা কোন খাবার আর শেষ বিকেলে ডায়েটে রাখুন বাদাম। বিকেল থেকে সন্ধ্যার মাঝে এক কাপ গ্রিন টি আর টোস্ট উইথ এগ হোয়াইট তরতাজা করবে আপনাকে। লেট ডিনার এভোয়েড করুন। ডিনারে ভাত না খেয়ে একটা রুটি, সাথে মাছ মাংস আর ডাল কিম্বা সবজি নিন।
• স্ট্রেসের মোকাবেলায় নিন হোয়ে প্রোটিন ডায়েট। এটি প্রোটিনের গুড়ো বা প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে পরিচিত। যা আপনার ওজন কমাতে, রক্তচাপ , কোলেস্টেরল ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করবে।
• ভিটামিন সি, ভিটামিন ই (অ্যান্টি অক্সিডেন্ট) বি কমপ্লেক্স, এবং ক্যালশিয়াম থেকে পারেন সাপ্লিমেন্ট হিসেবে।
• ঘন ঘন খাবার ইটিং প্যাটার্ন বজায় রাখুন। তবে চেষ্টা করুন বাসা থেকে একটু রাজমা- ছোলা- গাজর শসার সালাদ কিম্বা যেকোন ফল বা বাদাম – খেজুর সাথে ক্যারি করতে। শরীর প্রপার নিউট্রিশন পেলে স্ট্রেসের সঙ্গে মোকাবিলা সহজ হয়। সহজে ক্লান্ত হয় না।
• ডায়েট ছাড়া্ও নিজের স্লিপিং টাইম রাত জাগার পরিবর্তে এগিয়ে আনার চেষ্ট করুন। স্ট্রেসের মোকাবেলার জন্য শরীরের পর্যাপ্ত বিশ্রাম ভীষণ জরুরি।
• সপ্তাহে দু একদিনের বেশি আমিষ খাবার খাবেন না। খেলেও লিন মিট খাবারের চেষ্টা করুন। আমিষ হজমে সময় লাগে যা অন্য কাজ কর্মকে ব্যহত করে।
• ওয়েট ট্রেনিং শুরু করুন এতে শরীরের বোন মিনারেল ডেনসিটি এবং লিন মাসের উন্নতি হবে। শরীরে ফ্যাট কমবে। স্ট্রেস রিলিফের পাশাপাশি পিঠ এবং গায়ের নানান ব্যাথা থেকে মুক্তিও পাবেন।
আফসানা নীলা
সাংবাদিক , একুশে টেলিভিশন
( মাস্টার্স ইন ফুড এন্ড নিউট্রিশন )







