শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

মানসিক চাপ ও সুস্থতা

প্রত্যেক মানুষেরই মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। প্রতিদিন মানুষকে বিভিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়। এর মধ্যে কখনো সেসব ঘটনা থাকে সুখের, আবার কোনো  ঘটনা মনে বিষাদ, রাগ-ক্ষোভ কিংবা দুঃখ বয়ে আনে।

আবার যে কারো জীবনেই দুঃখ- হতাশা- নৈরাশ্যের মত কালো মেঘ বাসা বাঁধতেই পারে, তাই বলে জীবনকে তো ব্যর্থ ভাবলে চলবেনা। খারাপ সময় বা পরিস্থিতিকে মোকাবিলার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান থাকাটাই জরুরি।
তবে মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হলে এর সম্পর্কে ভালো করে জেনে নিতে হবে অবশ্যই। অর্থাৎ স্বাস্থ্য কী এই বিষয়টি না জানলে এটি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা কেউ ভাববে না এটাই স্বাভাবিক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর মতে স্বাস্থ্য হল ব্যক্তির শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক এই তিন অবস্থার একটি সুস্থ সমন্বয়। অর্থাৎ স্বাস্থ্যের অন্যতম উপাদান হল মনের সুস্থতা বা মানসিক স্বাস্থ্য। মানুষের চিন্তা ,আবেগ ও আচরণ এই তিন মিলেই হল মানসিক স্বাস্থ্য।  সংস্থাটির মতে, পরিচালিতএক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে।

সত্যি কথা বলতে, একজন মানুষ তার শারীরিক স্বাস্থ্য নিয়ে যতটা সচেতন থাকেন, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে ততটা সচেতন হননা। অথচ মানসিক স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে তা অবশ্যই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর ভীষণ ভাবে প্রভাব ফেলতে পারে। শরীর ও মনের সমান যত্নেরই প্রয়োজন। তবে কজনেই বা  শুনেন তাদের  সে মনের কথা। আর মনের যত্নের কথা কজনই বাভাবেন?!

শারীরিক অসুস্থতা, অপর্যাপ্ত ঘুম, সাংসারিক কাজ, যৌন নির্যাতন, ইভ টিজিং, পারিবারিক নির্যাতনসহ নানা ধরনের মানসিক চাপ হতে পারে আমাদের। আবার নারীরা মেনোপজ, গর্ভকালীন বিষণ্নতা, বয়ঃসন্ধিক্ষণসহ কিছু প্রাকৃতিক নিয়মের কারণেও বিষণ্নতা, হতাশা, কাজে অনীহাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু এটাকে অসুখ বলে গণ্য করার প্রবণতা এখনো নারীর মধ্যে তৈরি হয়নি। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় মানসিক অসুখের কথা পরিবার তেমন আমলে নেয় না। অনেকে বদনামের ভয়ে রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিতে চান না। তবে এই ট্যাবু ভাঙ্গার সময় এখনই। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যেসব বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি

 মানসিক সুস্থতা ও সুস্থ ভাবাবেগ পেতে নিজের যত্ন নেয়া প্রয়োজন। নিজের জন্য কিছুটা সময় আলাদা রাখা যেতে পারে , নিজের মনের কথা শোনা ,বই পড়া, গান শোনা।

 সুষম ও পুষ্টিকর খাবার কেবল শরীরকেই নয় , মনকেও ভালো রাখে। অন্যদিকে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটি খাবার আমাদের বিষন্নতার জন্য মারাত্মক দায়ী। ভিটামিন বি – ১২, ওমেগা -৩ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার  মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোকে চাঙ্গা রাখতে সাহায্য করে। তাই সবার উচিত পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়া।

 শরীর ও মন সুস্থ রাখতে  পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। কারণ পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে ফলে ক্লান্তিবোধ হয়। তাই মানসিক স্বাস্থ্য সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।

 মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য শারীরিক ব্যায়াম খুবই জরুরি। স্ট্রেস ও বিষন্নতা কাটাতে ব্যায়াম ভীষণ কাজে আসে। ব্যায়ামের ফলে শরীরে  ক্লান্তি ও মানসিক চাপ হ্রাস পায়। তাই মনকে চাঙ্গা রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যেস গড়ে তোলা সবার উচিত।

 নিজের শখের কাজগুলি করতে পারলে মন ভালো থাকে, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। দুশ্চিন্তা মাথায় আসে না। যেমন –বই পড়া, বাগান করা , রান্না কিংবা সেলাই করা, নতুন কোনো কিছু শেখা ইত্যাদি। ফলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

 নিজের দুর্বলতাগুলো মেনে নিয়ে নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস রাখলে জীবনে এগিয়ে চলার সাহস পাওয়া যায়।

comment

post a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

comment

post a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

হেলথ হাব ২৪ বিডি